ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো “পুষ্টি বৈশাখী মেলা ১৪৩৩”। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে টি.কে. গ্রুপের জনপ্রিয় কনজ্যুমার ব্র্যান্ড ‘পুষ্টি’ এই দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করে। নববর্ষের এই আনন্দ উৎসবে অংশ নিতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভিড় জমান হাজারো দর্শনার্থী।

খাদ্য নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন টি.কে. গ্রুপের সম্মানিত বিজনেস ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোফাচ্ছেল হক। পুষ্টি ব্র্যান্ডের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন:

“পুষ্টি গত ২০-২৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল ব্যবসা নয়, বরং বাঙালির কৃষ্টি, কালচার ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা। এই মেলার আয়োজন সাধারণ মানুষের সাথে পুষ্টির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।”

তিনি বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং জ্বালানি সংকটসহ নানাবিধ প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন এই উৎসবের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে। নতুন বছর সবার জীবনে সমৃদ্ধি আর নিরাপত্তা বয়ে আনুক—এই কামনায় তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

মেলার বর্ণিল আয়োজন ও উদ্বোধন
এর আগে উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন টি.কে. গ্রুপের হেড অব বিজনেস জনাব আলম চৌধুরী এবং হেড অব ব্র্যান্ড জনাব ইব্রাহিম খলিল। তারা বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে আধুনিক প্রজন্মের কাছে দেশীয় ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদন

দিনভর মেলা প্রাঙ্গণে ছিল সাজ সাজ রব। মেলার বিশেষ আকর্ষণগুলো ছিল:

সাংস্কৃতিক মঞ্চ: বাংলা ফিউশন মিউজিক, লোকসংগীত এবং বাউল গানের সুরে মুখরিত ছিল শহীদ মিনার এলাকা। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিঠু ও আক্তার রিয়া এবং বাউল শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

খাবারের স্বাদ: খাদ্যামোদীদের জন্য ছিল ‘মুড়ি মামা’ স্পেশাল স্টল। পুষ্টি মুড়ি ও সরিষার তেলের ঝালমুড়ি ছিল মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়াও ছিল ‘Chips Corner’।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন: তরুণদের জন্য ছিল “Best Reel Creator Campaign”। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা #PustiBoishakhiMela হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তাদের সৃজনশীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন।

মজার খেলা: ছোট-বড় সবার জন্য ছিল Ring Toss এবং Balloon Shooting-এর মতো আনন্দদায়ক গেমস।

উৎসবের সমাপ্তি
বিকেলের বিশেষ সংগীত সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। হাসি, আড্ডা আর দেশীয় ঐতিহ্যের মিশেলে দিনটি ছিল সবার জন্য স্মরণীয়। পুষ্টি পরিবারের পক্ষ থেকে মেলার সফলতার জন্য সকল দর্শনার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।